শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে ভারতের কেন এত অনীহা?

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে ভারতের কেন এত অনীহা?
ভারতের হাইকোর্ট। ছবি : সংগৃহীত

সাবেক ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়ে ঢাকার আনুষ্ঠানিক অনুরোধকে ভারত বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে না। ২৩ ডিসেম্বর দিল্লির বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘নোট ভার্বাল’-এর মাধ্যমে এই অনুরোধ পাঠানো হয়। তবে তার সন্তোষজনক জবাব এখনো ভারত দেয়নি।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার স্বৈরাচার হাসিনাকে গণহত্যার বিচারের জন্য ফেরত চাওয়ার কথা বললেও, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা প্রমাণসহ কোনও চার্জশিট ভারতকে দেয়নি। ভারতের একাধিক সূত্র মনে করে, এটি দায়সারা পদক্ষেপ, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের একটি বার্তা মাত্র।

ভারতের সাবেক কূটনীতিক পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট প্রমাণ ও আইনি পদক্ষেপ ছাড়া প্রত্যর্পণের দাবি কার্যকর নয়। ভারতের প্রত্যর্পণ আইন অনুযায়ী, রাজনৈতিক অভিযোগে অভিযুক্ত কাউকে ফেরত দেওয়ার সুযোগ নেই।

এদিকে, হাসিনার ভারতে পালানোর পেছনে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ভারত প্রশ্ন তুলেছে। শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিমানে দিল্লি পৌঁছান। এটি প্রমাণ করে, তাকে দেশ ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এখন একই রাষ্ট্র তাঁকে ফেরত চাওয়ায় একটি দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, নোট ভার্বালের পরিবর্তে আদালতের মাধ্যমে ‘লেটার রোগেটরি’ পাঠানো হলে এটি আরও কার্যকর হতে পারত। এতে নির্দিষ্ট প্রমাণ ও সাক্ষ্য উপস্থাপন করা যেত। তবে শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়া বাংলাদেশে তেমন অগ্রগতি না হওয়ায় এই পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি।

ভারত মনে করছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ঢাকার অনুরোধে যথেষ্ট গুরুত্বের অভাব রয়েছে। সুতরাং, এই অনুরোধের জবাব দিলেও তা তাড়াহুড়ো করে নয়।

দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সংকটের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ আদৌ কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

আমাদের ফলো করুন