২০২১ সালের আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করার পর, পাকিস্তান তাদের প্রকৃত মিত্র হিসেবে স্বাগত জানায়। সে সময় পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশীদ আহমেদ তালেবানের বিজয়কে একটি নতুন জোট গঠনের সম্ভাবনা হিসেবে দেখেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও তালেবানের মধ্যে সম্পর্ক শীতল হয়ে উঠেছে।
প্রায় দুই দশক ধরে, তালেবান পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আশ্রয় পেয়ে বিদ্রোহ সংগঠিত করে। পাকিস্তানের কোয়েটা, পেশোয়ার এবং করাচি শহরে তালেবান নেতাদের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। পাকিস্তানের মাদরাসাগুলো, বিশেষ করে দারুল উলুম হাক্কানিয়া, তালেবানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সম্প্রতি উত্তেজনার কারণ
দুরান্ড লাইন নিয়ে বিরোধ
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ১৮৯৩ সালের দুরান্ড লাইন একটি ঐতিহাসিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। পাকিস্তান এই সীমান্তকে স্বীকৃতি দিয়ে প্রায় পুরোপুরি বেড়া দিয়েছে। কিন্তু আফগানিস্তানের কোনো সরকার কখনো এই সীমান্তকে স্বীকৃতি দেয়নি। বর্তমান তালেবান সরকারও তাদের পূর্বসূরিদের মতোই এই সীমান্ত মেনে নেয়নি।
এদিকে ২০২২ সাল থেকে পাকিস্তানে সশস্ত্র বাহিনীর হামলার মাত্রা বেড়েছে, যার বেশিরভাগ দায় তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) স্বীকার করেছে। এদিকে টিটিপি ও আফগান তালেবান দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ফলে পাকিস্তান আফগান তালেবানকে টিটিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাপ দিচ্ছে, যা তালেবানের পক্ষে মানা কঠিন।
পাশাপাশি তালেবান সরকার এখন আফগান জাতীয়তাবাদকে উসকে দিয়ে পাকিস্তানের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর চেষ্টা করছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপন ও স্বনির্ভর সরকার গঠনে আগ্রহী। তবে এই মনোভাব পাকিস্তানের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাকিস্তানের কৌশল
সম্প্রতি পাকিস্তান আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে তালেবান সরকার তাদের সীমিত সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার কারণে সরাসরি পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারছে না। পাকিস্তান আফগানিস্তানের বাণিজ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং শরণার্থীদের আশ্রয়ের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের কৌশল অবলম্বন করছে।
সম্ভাব্য সমাধান
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী উত্তেজনা নিরসনে প্রয়োজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্ব। উভয় দেশের জন্য আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগ একটি বড় সম্ভাবনা, যা প্রায় ৩০ কোটিরও বেশি মানুষের জীবনমান উন্নত করতে পারে। তবে নিরাপত্তাকেন্দ্রিক নীতির পরিবর্তে সহযোগিতার ওপর জোর দিতে হবে।
পাকিস্তান ও তালেবানের দীর্ঘদিনের মিত্রতা বর্তমানে সংকটের মুখে। যদিও উভয় দেশের জন্য শান্তিপূর্ণ সহযোগিতা লাভজনক হতে পারে, নেতাদের মধ্যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কৌশলগত দূরদৃষ্টি ছাড়া এই উত্তেজনা কমানোর সুযোগ কম। তাই উভয় পক্ষের জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আঞ্চলিক সংযোগের পথে এগিয়ে যাওয়াই হতে পারে স্থায়ী সমাধান।
সূত্র: আল জাজিরা







