সম্প্রতি ভারতের বিহার রাজ্যের বিহপুর আসনের বিজেপি বিধায়ক ইঞ্জিনিয়ার শৈলেন্দ্র মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। গত রোববার তার নির্বাচনী এলাকায় এক জনসভায় তিনি বলেন, মুসলিমরা দেশের জন্য হুমকি! কারণ, তারা দেশকে ক্ষতি করছে। তাই মুসলিমদের অবশ্যই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি মুসলিমদের ভোট চাই না। তাদের ভোট ছাড়া হারতে হলেও আপত্তি নেই। আমরা আমাদের বক্তব্যে অটল থাকব। এতে কোন ভুল নেই!
বিজেপি নেতৃত্বের এমন মন্তব্য নতুন কিছু নয়। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দলের নেতারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বিতর্কিত মন্তব্য করে আসছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি পরিকল্পিত কৌশল।
’দেশের বিশৃঙ্খলার জন্য মুসলিমরা দায়ী!’
বিজেপি বিধায়ক শৈলেন্দ্র তার বক্তব্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, দেশের বিশৃঙ্খলার জন্য মুসলিমরা দায়ী। তার বক্তব্যে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে কারা? সনাতন ধর্ম সমর্থনকারীদের বিরোধিতা কারা করে? দেশের সন্ত্রাসীরা কারা? মসজিদে মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ কেন পাওয়া যায়?
শৈলেন্দ্র দাবি করেন, এ ধরনের ঘটনাগুলোর পেছনে মুসলিমরা রয়েছে এবং তাদের কার্যকলাপ সহিংসতা ও অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে।
মুসলিম জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মন্তব্য
এ ছাড়া মুসলিম জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়েও তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, হিন্দুরা ছোট পরিবার গড়ে তুললেও মুসলিমরা বড় পরিবার তৈরি করে। তিনি মুসলিমদের প্রতি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, বড় মুসলিম পরিবার দেশের অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টি করছে। তাই তাদের জন্মনিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
শৈলেন্দ্রর বিতর্কিত মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বিহারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিভিন্ন দল আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। শৈলেন্দ্রর বক্তব্য অনেকেই বিজেপির হিন্দু ভোট ব্যাংক সংহত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মীয় পরিচয়ের আবেগকে উস্কে দিয়ে এ প্রচেষ্টা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
২০২৫ সালের নির্বাচনে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের সম্ভাবনায় শৈলেন্দ্রর আত্মবিশ্বাসের পেছনে ওবিসি এবং হিন্দু ভোটারদের সমর্থন রয়েছে। তার এই মন্তব্য দলীয় কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যেখানে এমন বিভাজনমূলক ভাষার প্রয়োগে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে শৈলেন্দ্রর বক্তব্য বিহারে চলমান রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাকে আরও ঘনীভূত করেছে। এটি বিজেপির শাসনপদ্ধতি এবং বিভাজনমূলক বক্তব্যের প্রভাব নিয়ে বৃহত্তর উদ্বেগ তৈরি করেছে, যা ভারতের বহুধর্মীয় সমাজে স্পষ্টভাবে বিভেদ সৃষ্টি করছে।
সূত্র: মুসলিম মিরর







