মিয়ানমারে ২০২৪ সালে গোলাবর্ষণে রেকর্ড সংখ্যক বেসামরিক হতাহত

মিয়ানমারে ২০২৪ সালে গোলাবর্ষণে রেকর্ড সংখ্যক বেসামরিক হতাহত
মিয়ানমারে ২০২৪ সালে গোলাবর্ষণে রেকর্ড সংখ্যক বেসামরিক হতাহত। ছবি: রেডিও ফ্রি এশিয়া

মিয়ানমারের সাধারণ জনতার জন্য ২০২৪ সাল ছিল এক ভয়াবহ বছর। সামরিক বাহিনীর ধারাবাহিক বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে দেশজুড়ে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

রেডিও ফ্রি এশিয়ার (আরএফএ) প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছরে অন্তত ১,৭৬৯ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩,৭২০ জন। এই সংখ্যা ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিন বছরে মোট হতাহতের সংখ্যার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। আরএফএর তথ্য মতে, ২০২৪ সালে অন্তত ১২টি রাজ্য ও অঞ্চলে জান্তা বাহিনী গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলা চালায়। তবে ইয়াঙ্গুন ও আয়েয়ারওয়াদি অঞ্চল তুলনামূলকভাবে সামরিক বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকায় সেখানে এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেনি।

জান্তার সামরিক বাহিনীর এ নৃশংস আক্রমণের পেছনে রয়েছে তাদের ক্ষমতা হারানোর ভয়। ২০২৪ সালে দেশটির বিদ্রোহী বাহিনীগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠার ফলে জান্তার সামরিক বাহিনী মিয়ানমারের অর্ধেকেরও কম এলাকা ছাড়া পুরো মিয়ানমার তাদের থেকে হাতছাড়া হয়ে যায়। ফলে নিজ দেশে ক্ষমতা হারানোর প্রতিশোধ নিতে এবং বিরোধী বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে তারা গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে।

অতীতে হতাহতের পরিসংখ্যান

২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে মিয়ানমারে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে ১,২৮০ জন বেসামরিক লোক নিহত এবং ২,৩৭৪ জন আহত হন। তবে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে গেছে বহুগুণ।

অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (মিয়ানমার)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের প্রথম ১০ মাসে মিয়ানমারে বিমান হামলায় অন্তত ৫৪০ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই পশ্চিম মিয়ানমারের যুদ্ধবিধ্বস্ত রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা। বিশেষ করে এই অঞ্চলে চলমান সংঘাত এবং বিমান হামলা সাধারণ মানুষের জীবনে চরম ভয়াবহতা সৃষ্টি করেছে। বেশির ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকেরা তাদের বাসস্থান হারিয়েছেন। এমনকি নিঃস্ব হয়ে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।

আমাদের ফলো করুন