গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়া স্বৈরাচারী হাসিনা বর্তমানে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে । তার বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্য, দলীয় কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। কূটনৈতিক মহলে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি হাসিনার এমন কার্যকলাপ ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককেও প্রভাবিত করছে।
শেখ হাসিনার অপতৎপরতা
দিল্লিতে অবস্থান নিয়ে শেখ হাসিনা একাধিক উসকানিমূলক ও ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়েছেন, যা বাংলাদেশে উত্তেজনাকে বাড়িয়ে তুলেছে।
তার বক্তব্যের কিছু উল্লেখযোগ্য দিক হলো:
• তিনি বারবার দাবি করেছেন, তিনি পদত্যাগ করেননি এবং এখনও তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
• ড. ইউনূসকে গণহত্যার জন্য দায়ী করে তাকে ও তার সমর্থকদের বিচারের হুমকি দিয়েছেন।
• দলীয় কর্মীদের উসকানি দিয়ে বিরোধীদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
• সেনাবাহিনীতে উত্তেজনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বলেছেন, ড. ইউনূস সরকারের কারণে ভবিষ্যতে বাংলাদেশি সেনারা শান্তি মিশনে অংশ নিতে পারবে না।
তার এই ধরনের বক্তব্য শুধুমাত্র বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে না, বরং ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অডিও রেকর্ড ও ফোনালাপ ফাঁস
ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শেখ হাসিনার বিভিন্ন ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে, যেখানে তার বক্তব্যগুলো চরম উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১. যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা তানভীরের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি বলেন, তিনি দেশের খুব কাছাকাছি আছেন এবং সুযোগ পেলে চট করে দেশে ঢুকে পড়বেন।
২. ছাত্রলীগের এক নেতার সঙ্গে ফোনালাপে তিনি তার বিরুদ্ধে যারা মামলা করেছে, তাদের হত্যা এবং তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
৩. ডেনমার্ক ও অস্ট্রিয়াতে আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি ড. ইউনূসকে সন্ত্রাসী ও খুনি বলে আখ্যা দেন এবং তার বিচারের হুমকি দেন।
কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেখ হাসিনার কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য বন্ধ করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেছেন, ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করছে।
বিশিষ্ট কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞ প্রফেসর এম শহীদুজ্জামান মনে করেন, শেখ হাসিনার তৎপরতা ভারতের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার ফলে ভারত তার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।
এদিকে বাংলাদেশ সরকার ভারতের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক বার্তা বিনিময় করেছে এবং শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছে। তবে ভারত এই অনুরোধে কোনো উত্তর দেয়নি।







