২০২৪ সালে ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই বছর রাশিয়ার ৪ লাখ ৩০ হাজার ৭৯০ সেনা হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে একদিনেই ২,২০০ জনের মৃত্যু যুদ্ধের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছে কিয়েভ।
দোনেৎস্ক অঞ্চলে রাশিয়া বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। ইউক্রেনের সেনারা শহরাঞ্চলে বাড়ি থেকে বাড়ি এবং রাস্তা থেকে রাস্তায় সংঘর্ষে রুশ বাহিনীকে নাস্তানাবুদ করেছে। ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দ্র সিরস্কি জানিয়েছেন, এই ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ৩৬টি রুশ মোটরাইজড রাইফেল ডিভিশনের সমান।
২০২৪ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাস ছিল সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী। ইউক্রেন দাবি করেছে, শুধু ডিসেম্বরের ২৯ তারিখেই রাশিয়ার ২,০১০ সেনা হতাহত হয়েছেন। এর আগে ১৯ ডিসেম্বর রেকর্ড ২,২০০ রুশ সেনা নিহত হয়েছিল।
২০২৪ সালে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশ অর্থনীতিতে বেশ কৌশলগত যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তাদের ব্যবহৃত অস্ত্রের ৩০ শতাংশ দেশীয়ভাবে উৎপাদিত। অন্যদিকে রাশিয়া ড্রোন উৎপাদনে বিনিয়োগ করলেও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রযুক্তি আমদানিতে বাধার মুখে পড়েছে।
ইউক্রেন জানিয়েছে, ২০২৪ সালে তারা রাশিয়ার ১১,২০০ ড্রোন ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে ৭,৮০০ ছিল প্রত্যক্ষদর্শী ড্রোন। তবে এত ক্ষয়ক্ষতির পরও রাশিয়া ইউক্রেনের ভূমির মাত্র ০.৬৯ শতাংশ দখল করতে পেরেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক ট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের (আইএসডব্লিউ) তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া ২০২৪ সালে দোনেৎস্ক অঞ্চলের ৪,১৬৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছে। এই এলাকার মধ্যে আভদিভকা, সেলিদোভে, ভুহলেদার ও কুরাখোভের মতো শহর অন্তর্ভুক্ত। তবে দখল প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে হয়েছে।
আইএসডব্লিউ জানিয়েছে, দোনেৎস্ক পুরোপুরি দখল করতে রাশিয়ার আরও দুই বছর লাগতে পারে। যদিও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০২৪ সালের মধ্যে অঞ্চলটি দখলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
রাশিয়া সৈন্য সংকট মেটাতে উত্তর কোরিয়ার যোদ্ধাদের নিয়োগ দিয়েছে। তবে ইউক্রেন জানিয়েছে, তাদের এক-চতুর্থাংশ ইতোমধ্যে নিহত হয়েছে।
এদিকে ২০২৪ সালের শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনকে ২.৫ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। এই সহায়তায় আর্টিলারি গোলাবারুদ, রকেট, সাঁজোয়া যান এবং আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত।
যুদ্ধের নতুন কৌশল ও প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও পশ্চিমা মিত্রদের সহায়তা ছাড়া ইউক্রেনের প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা







