আরাকান রাজ্যের মংডু ও বুথিডং টাউনশিপে আরাকানের বৌদ্ধদের সস্থির জীবন ধীরে ধীরে ফিরে আসলেও রোহিঙ্গাদের জন্য সেই স্বপ্ন এখনো অধরা। মগ সন্ত্রাসী আরাকান আর্মি (এএ) ও মিয়ানমারের সামরিক জান্তার মধ্যে দীর্ঘকালীন সংঘর্ষ শেষ হলেও, রোহিঙ্গারা ঘরে ফিরতে পারছে না। আরাকানের অন্যান্য জনগোষ্ঠীদের নিজ বাসস্থানে ফেরার অধিকার দেওয়া হলেও রোহিঙ্গা মুসলিমদের সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
মংডু থেকে বাস্তুচ্যুত এক রোহিঙ্গা বাবা জানিয়েছেন তার অভ্যন্তরীণ যন্ত্রণার কথা। তিনি বলেন, আমরা অন্যদের ফিরে যেতে দেখছি, নতুন করে জীবন গড়তে দেখছি। কিন্তু আমাদের দরজা বন্ধ, একেবারে বন্ধ। মনে হয়, মুসলিম হওয়ায় আমাদেরকে কেউ মানুষই মনে করে না।
বছরের পর বছর ধরে শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবনের যাপন করছে রোহিঙ্গারা। সস্তা ছাউনি, অল্প কিছু খাবার, পরিষ্কার পানি এবং চিকিৎসা সেবার অভাবে তারা অসহায়। শিশুরা মাটিতে বেড়ে উঠছে, তাদের শিক্ষার জন্য কিছু নেই। এক শিক্ষক আক্ষেপ করে বলেন, শিবিরের জীবন আর সহ্য করা যাচ্ছে না। আমরা খাবারের জন্য কষ্ট পাচ্ছি, পানি নেই, চিকিৎসা তো দূরের কথা। যুদ্ধ থামল, কিন্তু আমাদের যন্ত্রণা অব্যাহত। কবে আমরা অন্যদের মতো বাঁচতে পারব?
আরাকান আর্মি অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসন শুরু করলেও, রোহিঙ্গাদের জন্য সেই সুযোগ বন্ধ রেখেছে। এই অবিচার তাদের আরও বিচ্ছিন্ন করেছে। বুথিডংয়ের এক বৃদ্ধ রোহিঙ্গা বলেন, আমরা ঘরে ফিরে, আমাদের জমিতে ফসল ফলাতে চাই। কিন্তু আমাদের কেন আটকে রাখা হচ্ছে? কেন আমরা এই অমানবিক পরিস্থিতিতে পড়ে থাকব। আমাদের কি কোন অধিকার নেই নিজ দেশে ফেরার?
রোহিঙ্গারা এখন আরাকান আর্মি এবং তার রাজনৈতিক শাখা ইউনাইটেড লিগ অব আরাকান (ইউএলএ)-এর কাছে ন্যায়বিচারের দাবিতে এক কাতারে দাঁড়িয়েছে। তাদের একটাই দাবি, আমাদেরও ফিরতে দিন, আমাদেরও অধিকার দিন।
বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই সংকটের দিকে গভীর দৃষ্টি নিবদ্ধ করাও ভুয়া শ্লোগান দিলেও, বাস্তবে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। যুদ্ধ শেষ হলেও রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ কমেনি, বরং তাদের সংগ্রাম আরো তীব্র হয়েছে।
এটা স্পষ্ট যে, রোহিঙ্গাদের অধিকার ফিরে পাওয়ার পথ এখনো অনেক দূরে। তাদের এই লড়াই একটি তীব্র প্রশ্ন রেখে যায়: কবে তারা আবার তাদের ঘর, তাদের ভূমিতে ফিরে যেতে পারবে, কবে তারা মর্যাদার জীবন পাবে?
তথ্যসূত্র: রোহিঙ্গা ভিশন







