যুদ্ধের চাপে বিধ্বস্ত সুদানের স্বাস্থ্যব্যবস্থা

যুদ্ধের চাপে বিধ্বস্ত সুদানের স্বাস্থ্যব্যবস্থা
যুদ্ধের চাপে বিধ্বস্ত সুদানের স্বাস্থ্যব্যবস্থা। ছবি: আল জাজিরা

সুদানে চলমান যুদ্ধের কারণে দেশের স্বাস্থ্যখাত মারাত্মক সংকটে পড়েছে। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের ঘাটতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের সংকট এবং র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) কর্তৃক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

২০২৩ সালের এপ্রিলে সেনাবাহিনী এবং আরএসএফ-এর মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের প্রধান ও সেনাপ্রধান আবদুল ফাত্তাহ বুরহান। অন্যদিকে আরএসএফ-এর নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ হামদান দাগলো (হেমেদতি)। জাতিসংঘ ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তবে আমেরিকার একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় মৃতের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধটি শুরু হয় ২০২২ সালের ডিসেম্বরে স্বাক্ষরিত ‘ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট’-এর আলোকে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই। ওই চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল অন্তর্বর্তীকালীন সামরিক সরকার এবং বেসামরিক শক্তি। তবে আরএসএফকে সেনাবাহিনীতে একীভূত করার বিষয়ে মতবিরোধ থেকেই প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ হয়।

স্বাস্থ্যখাতের ওপর আরএসএফ-এর ক্রমাগত হামলা

বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আরএসএফ যুদ্ধকালীন সময়ে সুদানের স্বাস্থ্যখাতকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস জানায়, দক্ষিণ খার্তুমের বাশায়ের হাসপাতালে আরএসএফ হামলা চালায়।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘হামলাকারীরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গুলি চালায় এবং চিকিৎসা সেবায় গুরুতর ব্যাঘাত ঘটায়। এছাড়া চিকিৎসা কর্মীদের সরাসরি হুমকিও দেওয়া হয়।’

গত আগস্ট মাসে সুদানের সরকারি সংবাদ সংস্থা জানায়, উমদুরমানের দাইয়াত হাসপাতালে আরএসএফ গোলাবর্ষণ করে। এতে হাসপাতালসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

খার্তুম রাজ্যের জরুরি স্বাস্থ্য কমিটি এ হামলার নিন্দা জানিয়ে একে আরএসএফের উদ্দেশ্যমূলক হামলা হিসেবে আখ্যায়িত করে। রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, এর আগেও দাইয়াত হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম লুট করেছে আরএসএফ। দেশের অন্যতম বৃহৎ এই বিশেষায়িত হাসপাতালটি চিকিৎসা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ও অনুসন্ধান

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস তাদের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ভিডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল সেনাবাহিনী ও র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে আরএসএফ ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মাসব্যাপী অনুসন্ধানের মাধ্যমে আরএসএফ-এর ১০ জন নেতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে তাদের বাহিনী সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করেছে। এ অপরাধগুলোর জন্য আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগলো (হেমেদতি)-কে দায়ী করার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবার সংকট ও নিরাপত্তাহীনতা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানায়, নিরাপত্তাহীনতার কারণে সুদানের স্বাস্থ্যসেবা ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। যুদ্ধকবলিত অঞ্চলের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি প্রধান হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেছে। কার্যরত হাসপাতালগুলোতেও কর্মী সংকট, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিশুদ্ধ পানি এবং বিদ্যুতের অভাবে বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, বারবার হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হামলার কারণে রোগী এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা সেবা নিতে বা দিতে পারছেন না। ফলে সংক্রামক রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

ডব্লিউএইচও-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাতের কারণে লাখো মানুষ তাদের বাসস্থান ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। কিছু মানুষ দেশের ভেতরে আশ্রয় নিলেও অনেকে নিরাপত্তার জন্য চাদ, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, মিসর, ইথিওপিয়া এবং দক্ষিণ সুদানে আশ্রয় নিয়েছেন।

এদিকে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি জানায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর ওপর হামলা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর সহিংসতার ফলে খাদ্য সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে। সংস্থাটির স্বাস্থ্য কর্মসূচির প্রধান এমিলি শাবাত বলেন, ‘ক্লিনিকগুলোর পরিস্থিতি অবর্ণনীয়। চিকিৎসা সরঞ্জাম, খাবার ও পানির অভাবে মানুষ চরম দুর্দশায় ভুগছে। প্রবীণ, নারী ও শিশুরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল (BMJ)-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সুদানে যুদ্ধের কারণে স্বাস্থ্যখাত বিপর্যস্ত। চিকিৎসা সেবার অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। বিশেষ করে যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে গেছে বা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধের ফলে দেশটি চার ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে—সংক্রামক রোগ, অসংক্রামক রোগ, শারীরিক আঘাত এবং মানসিক আঘাত।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, সুদানে ৬৮ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এছাড়া আরো ১৫ লাখ মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে ২ কোটি ৪৮ লাখ মানুষ-যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক-মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে অপুষ্টির কারণে ৪ কোটি শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধের আঘাতে বিপর্যস্ত সুদানের স্বাস্থ্যব্যবস্থা

যুদ্ধ শুরুর আগেই সংকটে ছিল সুদানের স্বাস্থ্যব্যবস্থা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার উপাদানসমূহ –যেমন সেবা প্রদান, অর্থায়ন, স্বাস্থ্যকর্মী সংখ্যা, চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ, স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম– সব ক্ষেত্রেই দেশটি বহু সমস্যার মুখোমুখি ছিল।

যুদ্ধ-পূর্ব সংকট

স্বাস্থ্যখাতে অর্থের সংকট, স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব এবং চিকিৎসাসেবায় প্রবেশাধিকারে বৈষম্যের মতো সমস্যাগুলো যুদ্ধের আগেই প্রকট ছিল। ২০১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, সুদানে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য চিকিৎসক, নার্স এবং ধাত্রী ছিল যথাক্রমে ৩.৬, ১৪ এবং ৯.১, যা ডব্লিউএইচও-র নির্ধারিত মানদণ্ডের (২২.৮) তুলনায় অনেক কম। এছাড়া ৯৫.৯৪ শতাংশ মানুষকে ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে হতো।

যদিও দেশটি ধীরে ধীরে উন্নতির পথে এগোচ্ছিল, যুদ্ধ সেই প্রক্রিয়া থামিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার পথে।

যুদ্ধের প্রভাব

যুদ্ধের ফলে স্বাস্থ্য খাতের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে সেবাদান ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ক্ষেত্রে। ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ, যুদ্ধপ্রভাবিত অঞ্চলের ৭০ শতাংশ সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম এক বছরের মধ্যেই ৩০ শতাংশ সরকারি হাসপাতাল কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়।

খার্তুম ছিল এই সংঘাতের প্রধান কেন্দ্র। যুদ্ধ শুরুর পর সেখান থেকে হাজারো মানুষ ও রোগী আশ্রয়ের খোঁজে আল-জাজিরা অঞ্চলে চলে যায়। তবে ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ যুদ্ধ আল জাজিরা অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে, ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও আশ্রয়প্রার্থীরা মারাত্মক সংকটে পড়ে।

খার্তুমে ৫৮.৫ শতাংশ হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেছে, আল জাজিরাতে ৫৬.২ শতাংশ হাসপাতাল কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। লুটপাট, হামলা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধ্বংসের কারণে এসব হাসপাতাল বন্ধ হয়।

অন্যান্য অঞ্চলের অবস্থা

দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের দরফুর ও কুরদুফান অঞ্চলও স্বাস্থ্য সংকটে ভুগছে। মধ্য দরফুরে ৪০ শতাংশ সরকারি হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেছে। উত্তর কুরদুফানে হাসপাতাল বন্ধের হার কিছুটা কম হলেও যথাক্রমে ৩৩ শতাংশ, ২৬.৮ শতাংশ এবং ১৬.২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।

যুদ্ধের ফলে নিরাপত্তাহীনতা, স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিপর্যয় হাসপাতালগুলোকে কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য করেছে। এমনকি অ্যাম্বুলেন্স লুট হয়ে যাওয়ায় রোগী পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে গাধার গাড়ি বা হাতগাড়ি।

তথ্য ব্যবস্থার সংকট

স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থাও যুদ্ধের আঘাতে বিপর্যস্ত। তথ্য সংগ্রহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় স্বাস্থ্য তথ্য বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

যুদ্ধের এসব প্রভাব সুদানের স্বাস্থ্যখাতকে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ফেলেছে। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার পুনর্গঠনে এই পরিস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সুদানের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় নতুন সংকট ও চ্যালেঞ্জ

যুদ্ধ শুরুর আগে সুদানের স্বাস্থ্যব্যবস্থা সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের চাপে ছিল। তবে যুদ্ধের কারণে এই সংকট শুধু বাড়েনি, বরং নতুন চ্যালেঞ্জ যুক্ত হয়েছে। শারীরিক আঘাত এবং সংঘাত-সম্পর্কিত মানসিক চাপ দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও ভঙ্গুর করে তুলেছে।

যুদ্ধের ফলে সুদানের স্বাস্থ্য সংকট দ্বৈত রোগের চাপ থেকে চতুর্মুখী রোগের চাপে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সংক্রামক রোগ, অসংক্রামক রোগ, শারীরিক আঘাত এবং মানসিক চাপ। এই চার ধরনের সমস্যা দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে।

সংক্রামক রোগের প্রকোপ

যুদ্ধের কারণে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। পরিবেশগত স্যানিটেশন ব্যবস্থার ধ্বংসের ফলে কলেরা, হাম, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এবং জলাতঙ্কের মতো সংক্রামক রোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

যুদ্ধের ফলে দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা পেতে সমস্যা হচ্ছে। বাস্তুচ্যুতি ও অস্থিরতার কারণে ওষুধ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ইনসুলিনসহ ওষুধ সংরক্ষণও ব্যাহত হচ্ছে।

সংকট মোকাবেলায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক নানা উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে পরিচালিত চ্যারিটি কিচেন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আটকে পড়া মানুষের জন্য খাবার সরবরাহ করছে। এসব উদ্যোগে প্রবাসী সুদানি কমিউনিটির বড় ভূমিকা রয়েছে।

ফেডারেল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাসপাতাল পুনর্গঠন ও সংস্কার এবং মা ও শিশুর অপুষ্টি প্রতিরোধ শীর্ষক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এতে স্থানীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। সুদানের চিকিৎসকদের বিভিন্ন সংগঠন এবং কাতারে অবস্থিত পেশাজীবীদের সহযোগিতায় এই উদ্যোগগুলো কার্যকর হচ্ছে।

এসব উদ্যোগের পরও সুদানের স্বাস্থ্যব্যবস্থা বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আন্তর্জাতিক সাহায্যের জন্য জাতিসংঘ যে আহ্বান জানিয়েছে, তার মাত্র ৫ শতাংশ তহবিল পাওয়া গেছে। ফলে ২.৫৬ বিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘাটতি রয়েছে।

সংকট উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

সুদানে চলমান সংঘাত দেশটির মানবিক ও স্বাস্থ্য সংকটকে গভীরতর করেছে। বাস্তুচ্যুতি, চরম ক্ষুধা এবং যুদ্ধের শারীরিক ও মানসিক প্রভাব আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া সমাধান সম্ভব নয়।

যদিও পরিস্থিতি কঠিন, তবে দেশটির চিকিৎসক এবং সাধারণ মানুষের সৃজনশীলতা ও দৃঢ়তা প্রশংসনীয়। গবেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত নয় সুদানকে ‘ভুলে যাওয়া যুদ্ধক্ষেত্র বানানো।’ দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থার পুনর্গঠনই সংকট মোকাবিলায় প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে।

আমাদের ফলো করুন