ইসরায়েল কেবল বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমেই তাদের বন্দিদের ফিরে পাবে বলে মন্তব্য করেছেন ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের অন্যতম নেতা উসামা হামদান। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বন্দিদের ভাগ্য নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ এনেছেন।
বৃহস্পতিবার আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে প্রেস হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে উসামা হামদান এসব কথা বলেন।
হামদান বলেন, ‘বন্দি বিনিময় চুক্তি নিয়ে আমাদের কিছু নীতিমালা আছে যা বাস্তবায়ন করা হবে। এ অনুযায়ী তারা তাদের বন্দিদের এবং আমরা আমাদের বন্দিদের ফিরে পাব। তবে চুক্তি ছাড়া ইসরায়েল তাদের বন্দিদের জীবিত অবস্থায় ফিরে পাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘নেতানিয়াহু বন্দিদের মুক্তি দিতে চান না। বরং তিনি তাদের হত্যার আশায় আছেন। কারণ তিনি জানেন, ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি মানেই ফিলিস্তিনি বন্দিদেরও মুক্তি। কিন্তু আমরা নেতানিয়াহুর উদ্দেশ্যে চিন্তিত নই। আমাদের লক্ষ্য হলো গাজা থেকে দখলদার বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং চলমান আগ্রাসনের সমাপ্তি।’
সংবাদ সম্মেলনে হামাস নেতা আরও বলেন, ইসরায়েলি দখলদারদের পরিকল্পনা শুধু ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলকেই হুমকির মুখে ফেলেছে।
তিনি বলেন, ‘দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধে আমরা আমাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছি। তবে আমরা আশা করি, আমাদের ভাইয়েরাও তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। যদি কোনো পক্ষ এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তবে এর নেতিবাচক প্রভাব শুধু ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর নয়, ব্যর্থ পক্ষের ওপরও পড়বে।’
ইসরায়েলের আটক বন্দিদের মুক্তির বিষয়ে হামাসের সঙ্গে কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনা বারবার ব্যর্থ হয়েছে। কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, নেতানিয়াহুর গাজা-মিসর সীমান্তের ফিলাডেলফিয়া করিডোর এবং রাফা ক্রসিংয়ের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জেদ। এ ছাড়া গাজার উত্তরে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টাও অন্যতম কারণ।
এদিকে হামাস জানিয়েছে, তেল আবিব ৩৪ জন ইসরায়েলি বন্দির একটি তালিকা দিয়েছে। তাদের বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তির সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।
তবে হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় হামলা চালিয়ে তাদের হাতে থাকা বেশ কয়েকজন বন্দিকে হত্যা করেছে।
বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারে ১০ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছে। অন্যদিকে গাজায় ৯৯ জন ইসরায়েলি বন্দি থাকার কথা জানিয়েছে হামাস।
ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভেন উইটকফ বলেছেন, এটি তার কাছে অগ্রাধিকারমূলক বিষয়।
বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি চ্যানেল ১২-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘২০ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের আগেই ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।’
সূত্র : আনাদোলু







