ভারতের সম্ভলে মসজিদের কুয়ায় পূজা নিষিদ্ধ করল সুপ্রিম কোর্ট

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দেওয়ার সিদ্ধান্তে ভারতের কঠোরতা, মুসলিমদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দেওয়ার সিদ্ধান্তে ভারতের কঠোরতা, মুসলিমদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। ছবি: মুসলিম মিরর

সম্ভলের শাহী জামে মসজিদের নিকটবর্তী একটি কুয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার সেই কুয়ায় পূজা আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পাশাপাশি প্রশাসনের জারি করা বিতর্কিত নোটিশ স্থগিত করে আদালত দুই সপ্তাহের মধ্যে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না ও বিচারপতি পি ভি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ বলেন, প্রশাসনের বিতর্কিত নোটিশের কার্যকারিতা স্থগিত থাকবে এবং কুয়াটি নিয়ে কোনো নতুন পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। আদালত শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

প্রশাসনের জারি করা বিতর্কিত নোটিশে দাবি করা হয়, মসজিদটি মুঘল শাসনামলে একটি মন্দির ভেঙে তৈরি করা হয়েছিল। এর ভিত্তিতে মসজিদের প্রবেশপথে থাকা কুয়াটিকে পুনরায় হিন্দুদের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হোক।

এদিকে মসজিদ কমিটি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে জানায়, প্রশাসনের নোটিশে কুয়াটিকে ‘হরি মন্দির’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সেখানে পূজা আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এটি স্থানীয় শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য হুমকি হতে পারে বলে কমিটি আশঙ্কা প্রকাশ করছে।

মসজিদ কমিটির আইনজীবী হুজাইফা আহমদি আদালতে বলেন, কুয়াটি মসজিদের প্রবেশপথে অবস্থিত এবং আংশিকভাবে মসজিদের ভেতরে। এটি পূজার জন্য খুলে দেওয়া হলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে।

কমিটি আরও অভিযোগ করে, সম্ভল প্রশাসন পুরনো মন্দির ও কুয়া পুনরুজ্জীবনের নামে মসজিদকে মন্দির হিসেবে চিত্রিত করছে। পাশাপাশি পোস্টার ও ফেস্টুন বানিয়ে মসজিদকে মন্দির হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা নাগরিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

হিন্দু পক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, কুয়াটি মসজিদের অংশ নয় এবং এটি দীর্ঘদিন ধরে সকলেই ব্যবহার করে আসছে। আদালত এ বিষয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর জানান, কুয়াটির অধিকাংশ মসজিদের ভেতরে এবং কিছু অংশ বাইরে রয়েছে। ফলে শান্তি বজায় রাখতে সেখানে পূজা আয়োজন আপাতত বন্ধ থাকবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট একটি আদেশে জানিয়েছিল, ধর্মীয় স্থাপনার চরিত্র নিয়ে বিতর্কিত কোন মামলায় স্থানীয় আদালত নতুন কোনো কার্যক্রম চালাতে পারবে না।

আদালত এ ঘটনায় প্রশাসনকে সতর্ক করে দিয়েছে এবং সব পক্ষকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের ফলো করুন