চীনের শিনজিয়াং প্রদেশে এক উইঘুর নারীকে তার সন্তান ও প্রতিবেশীকে ইসলাম ধর্মের শিক্ষা দেওয়ার অভিযোগে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সায়লিখান রোজি (৪৯) নামের এই নারীকে অবৈধ ধর্মীয় কার্যকলাপ পরিচালনার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে এই দন্ড দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়াই অপরাধ
রেডিও ফ্রি এশিয়ার (আরএফএ) প্রতিবেদনে জানানো হয়, সায়লিখান রোজি তার দুই ছেলে এবং এক প্রতিবেশীকে কোরআনের ১০টি আয়াত শেখান, যা নামাজ পড়ার সময় মুসলিমরা পাঠ করে। এ কারণে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সাইবাগ গ্রামের একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি রোজির মামলা তদারকি করেছেন। তবে তার কারাবাস সংক্রান্ত আর কোন তথ্য প্রকাশ করেননি।
কাসগার প্রিফেকচারের কোনাশেহের কাউন্টির বুলাকসু টাউনশিপের একটি পার্টি কমিটির একজন কর্মকর্তা জানান, রোজি সাইবাগ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তার ‘অবৈধ ধর্মীয় কার্যকলাপের’ কারণে এই শাস্তি দেওয়া হয়।
ছেলেদের শাস্তি
রোজির দুই ছেলেকেও ’অবৈধ ধর্মীয় শিক্ষা’ গ্রহণের অভিযোগে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বড় ছেলে সাত্তার কাদিরকে ১০ বছর এবং ছোট ছেলে ইউসুফ আহমেদ কাদিরকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এছাড়া রোজি তার প্রতিবেশী ইয়াকুপ হিদায়েতকে তিন দিনের জন্য ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হন। ইয়াকুপকে ৯ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ফাঁস হওয়া নথির তথ্য
‘শিনজিয়াং পুলিশ ফাইলস’ নামে পরিচিত ফাঁস হওয়া সরকারি নথি থেকে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে। নথিগুলোতে দেখা যায়, ২০০৪ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে রোজি তার ছেলেদের এবং ২০০৬ সালের জুন মাসে তিন দিনের জন্য প্রতিবেশী ইয়াকুপকে ধর্মীয় শিক্ষা দেন।
এই ফাইলগুলো ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভিকটিমস অব কমিউনিজম মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন’ প্রকাশ করে। এতে ৮ লাখ ৩০ হাজার ব্যক্তির তথ্য রয়েছে। যদিও রোজির গ্রেপ্তার হওয়ার তথ্য এতে উল্লেখ ছিল, তার দণ্ড সংক্রান্ত কোন তথ্য ছিল না।
উইঘুরদের ওপর দমনপীড়ন
গত কয়েক বছরে শিনজিয়াং অঞ্চলে চীনা সরকার উইঘুরদের ওপর দমনপীড়ন চালিয়ে আসছে। নামাজ পড়া, দাড়ি রাখা, মসজিদে যাওয়া এবং কোরআন শেখানোর মতো দীনী চর্চাগুলোকে ‘সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও চরমপন্থার’ বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অজুহাতে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে!
২০১৭ সাল থেকে প্রায় ১৮ লাখ উইঘুরকে ‘পুনঃশিক্ষা শিবিরে’ বন্দী করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এই বন্দীরা মুসলিম ধর্ম চর্চায় জড়িত ছিল বা সন্তানদের ইসলামিক শিক্ষা দিতে বিদেশে পাঠিয়েছিল। চীনা কর্তৃপক্ষ দাবি করে, এসব শিবির কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হতো, যা বর্তমানে বন্ধ।
যেসব উইঘুর মুসলিম তাদের সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা দিয়েছেন বা সন্তানদের ইসলাম শেখার জন্য অন্য দেশে পাঠিয়েছেন, তাদের অনেককেই ১০ থেকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের সন্তানদেরকেও ১০ বছরের কম সময়ের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: রেডিও ফ্রি এশিয়া







