সাম্ভালে ‘দখলদার’ বিরোধী অভিযানে বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে আবাসন

সাম্ভালে 'দখলদার' বিরোধী অভিযানে বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে আবাসন
সাম্ভালে 'দখলদার' বিরোধী অভিযানে বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে আবাসন। ছবি: মুসলিম মিরর

ভারতের উত্তর প্রদেশের সাম্ভাল জেলা প্রশাসন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার লক্ষ্যে দখলদারবিরোধী অভিযানে বুলডোজার ব্যবহারে জোর দিয়েছে।

গত শনিবার পাপ মোচন তীর্থ এলাকার আশপাশের তথাকথিত অবৈধ দখলদারিত্ব অপসারণে বড় আকারের অভিযান চালানো হয়। উপবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) বন্দনা মিশ্রার নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে পৌরসভা ও রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সনাতনী ধর্মীয় স্থানগুলোর চারপাশের অস্থায়ী দোকান ও কাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

অভিযানে পাপ মোচন তীর্থ ও টিওয়ারি সরাইয়ের বাজোয়ি রোডে হোলিকা দহন স্থলের দখলদারিত্ব সরানো হয়। এসডিএম বন্দনা মিশ্রা বলেন, তীর্থস্থানের পেছনে হোলিকা দহন স্থলের অবৈধ দখলদারিত্ব সরানো হয়েছে। যারা এই জমি অবৈধভাবে দখল করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ অভিযানের আগে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) ড. রাজেন্দ্র পেনসিয়া ও পুলিশ সুপার (এসপি) কৃষ্ণন বিষ্ণোই শুক্রবার এলাকাটি পরিদর্শন করেন। তারা অবৈধ কাঠামো চিহ্নিত করে দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেন। ডিএম ড. রাজেন্দ্র পেনসিয়া বলেন, জেলার ঐতিহ্য রক্ষায় ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

পাপ মোচন তীর্থ ছাড়াও মুনি মাতা মন্দির সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ কাঠামো সরানো হয়। বাঁশের ব্যারিকেড ও অন্যান্য অস্থায়ী স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। কিছু বাসিন্দা স্থান খালি করার জন্য বাড়তি সময় চাইলেও প্রশাসন পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান চালায়। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে অনেকে নিজেরাই জিনিসপত্র সরিয়ে নেন।

জেলা প্রশাসন সাম্ভালের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো চিহ্নিত করে মানচিত্র তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে। পর্যটক ও ভক্তদের সুবিধার্থে এসব স্থানে সাইনেজ স্থাপন ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসনের মতে, ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান পুনরুদ্ধার শুধু আধ্যাত্মিকতার জন্য নয়, বরং সাম্ভালের সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষায়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের ফলো করুন