গুজরাটে বুলডোজার দিয়ে হজরত পাঁচ পীর দরগাসহ ২০০ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ

গুজরাটে বুলডোজার দিয়ে হজরত পাঁচ পীর দরগাসহ ২০০ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ
গুজরাটে বুলডোজার দিয়ে হজরত পাঁচ পীর দরগাসহ ২০০ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ। ছবি: মুসলিম মিরর

গুজরাটের দ্বারকা জেলায় অবৈধ দখলদারির বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি ওখা এলাকায় গুজরাট মেরিটাইম বোর্ডের (জিএমবি) মালিকানাধীন জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত হজরত পাঁচ পীর দরগা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত তিন দিনের অভিযানে বেট দ্বারকা এলাকায় প্রায় ২০০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে হাজার হাজার বর্গমিটার সরকারি জমি দখলমুক্ত(!) হয়েছে।

পিরোটন দ্বীপেও ৪,০০০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে থাকা অবৈধ দখলদারি অপসারণ করা হয়েছে। দ্বীপটি মেরিন ন্যাশনাল পার্কের অংশ এবং সেখানে অবৈধ স্থাপনা সামুদ্রিক পরিবেশ, বিশেষত প্রবাল প্রাচীরের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠেছিল। দ্বীপটি জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি দেশের অপরিশোধিত তেলের ৬০ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিতকারী পাঁচটি এসপিএমের (সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং) নিকটবর্তী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘পিরোটন দ্বীপ এখন সব ধরনের অবৈধ দখল থেকে মুক্ত। এটি আমাদের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভূপেন্দ্র ভাই প্যাটেল সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কারণে এই সাফল্য(!) সম্ভব হয়েছে।’

বেট দ্বারকা সম্পর্কে সাংঘভি আরও বলেন, ‘এটি কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাসের স্থান। শ্রীকৃষ্ণের ভূমিতে কোন অবৈধ দখলদারি চলতে দেওয়া হবে না। আমাদের সংস্কৃতি ও বিশ্বাস রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব।’

গুজরাট সরকারের তথ্য অনুসারে, অবৈধ দখলদারি এবং লোকজনের অননুমোদিত চলাচল জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছিল। এমনকি মাদক পাচারের সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের ঝুঁকি ছিল।

এই অভিযানে অংশ নিয়েছে প্রায় ১,০০০ জনের একটি দল, যার মধ্যে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্য রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিযান পরিচালনায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে মাঠে নামে প্রশাসন।

যদিও অভিযানের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি, তবে বিশাল সংখ্যক স্থাপনা ধ্বংস করতে এটি দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রশাসন বলছে, এই উদ্যোগ শুধু জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নয়, বরং সামুদ্রিক পরিবেশের সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দ্বীপের প্রাকৃতিক অবস্থা পুনরুদ্ধারের এই পদক্ষেপকে স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।

আমাদের ফলো করুন