পশ্চিম তীরে উচ্ছেদ পরিকল্পনায় স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ ইসরায়েলের

পশ্চিম তীরে উচ্ছেদ পরিকল্পনায় স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ ইসরায়েলের
পশ্চিম তীরে উচ্ছেদ পরিকল্পনায় স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ ইসরায়েলের। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

গতকাল মঙ্গলবার ১৪ জানুয়ারি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরে ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি ও স্থাপনার নির্মাণ বন্ধে ১৬টি নোটিশ জারি করেছে। এতে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো উচ্ছেদের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে দখলদারির পরিকল্পনা। ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা মু’তাজ বাশারাত জানান, উত্তর উপত্যকার রাস আহমার এলাকায় সেনাবাহিনী এই নোটিশগুলো জারি করেছে। এতে পাঁচটি বসতিসহ বেশ কিছু স্থাপনা রয়েছে, যেখানে পাঁচটি পরিবার বসবাস করে। তাদের সদস্যসংখ্যা ৪২।

তিনি বলেন, নির্মাণ বন্ধের এই নোটিশ মানে কোন ধরনের সংস্কার বা পরিবর্তন করা যাবে না। মালিকরা এই নির্দেশ না মানলে, এরপর ধ্বংস বা উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হবে।

বাশারাত আরও জানান, পুরো রাস আহমার এলাকায় প্রায় ২৩০টি স্থাপনার বিরুদ্ধে আগে থেকেই ধ্বংসের নোটিশ রয়েছে। সেখানে প্রায় ৪২টি পরিবার বসবাস করছে, যাদের সদস্য সংখ্যা ১৫০-এর বেশি।

নতুন নোটিশে বলা হয়েছে, আগামি ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে স্থাপনাগুলোতে কোন পরিবর্তন আনা যাবে না। এরপর এসব স্থাপনা ধ্বংসের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

বাশারাত অভিযোগ করেন, এই নোটিশের মূল লক্ষ্য ফিলিস্তিনিদের নিজ বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা। পাশাপাশি দুটি ইসরায়েলি বসতিকে সম্প্রসারণ এবং ওই এলাকায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই এর প্রধান উদ্দেশ্য।

১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তি অনুযায়ী, পশ্চিম তীরকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে:

‘এ’ অঞ্চল: ফিলিস্তিনিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।
‘বি’ অঞ্চল: ফিলিস্তিনিদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে, তবে নিরাপত্তা ইসরায়েলের হাতে।
‘সি’ অঞ্চল: পুরোপুরি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। পশ্চিম তীরের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিস (ওসিএইচএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পশ্চিম তীরের ‘সি’ অঞ্চলে ১,০৫৮টি ফিলিস্তিনি স্থাপনা ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে ১৯২টি ছিল বসতবাড়ি। এতে ৮৬০ জন ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আরও ৩৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ফিলিস্তিনিরা বলছেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এসব পদক্ষেপ তাদের জীবন ও ভূমির ওপর সরাসরি আঘাত। বসতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে তাদের অঞ্চল দখলের পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

আমাদের ফলো করুন