গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণায় উল্লাসে মেতে উঠেছে আরব বিশ্ব

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণায় উল্লাসে মেতে উঠেছে আরব বিশ্ব
গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণায় উল্লাসে মেতে উঠেছে আরব বিশ্ব। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে বুধবার সন্ধ্যায় জর্ডান, লেবানন, মালয়েশিয়া, পশ্চিম তীর, সিরিয়া এবং তিউনিসিয়ায় স্বতঃস্ফূর্ত জনউৎসবের আয়োজন করা হয়।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান এ দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন, মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং বন্দি বিনিময়ের চুক্তি সম্ভব হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করবে। এই চুক্তি কার্যকর হবে আগামী রোববার থেকে।

ইসরায়েলের ৪৬৭ দিনের দমন-পীড়ন ও মার্কিন সমর্থিত হামলায় গাজায় অন্তত ১ লাখ ৫৭ হাজার ফিলিস্তিনি হতাহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই শিশু ও নারী। ১১ হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ। ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ও ক্ষুধায় বহু শিশু ও বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এই যুদ্ধ মানব ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক বিপর্যয়ের উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চুক্তির ঘোষণা আসার পর জর্ডানের রাজধানী আম্মানে গাড়ি শোভাযাত্রায় মেতে ওঠে মানুষ। ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে স্লোগান দেন তারা। আনন্দে বিভোর অনেকেই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মিষ্টি বিতরণ করেন। তারা ফিলিস্তিনি আন্দোলনের প্রশংসা করে স্লোগান দেন, ‘আল্লাহ তাদের শক্তি দিন’ এবং ‘জয় আমাদের।’

মালয়েশিয়ার তানজিয়ের শহরে গাড়ি শোভাযাত্রা হয়। রাবাতে এলাকায় ফিলিস্তিনের পতাকা ও মসজিদুল আকসার ছবি হাতে নিয়ে লোকজন সমবেত হন।

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে রামাল্লায়ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে আনন্দ মিছিল বের হয়। তারা ফিলিস্তিনের নেতা এবং গাজার সংগ্রামকে সম্মান জানিয়ে স্লোগান দেন।

লেবাননের শরণার্থী শিবিরগুলোতেও যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। রাজধানী বৈরুতসহ উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের বিভিন্ন জায়গায় মিছিল বের হয়। মিছিলকারীরা ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে নিয়ে স্লোগান দেন এবং আনন্দে আকাশে ফাঁকা গুলি ছোড়েন। মসজিদগুলো থেকে তাকবির ধ্বনি শোনা যায়।

সিরিয়ার আলেপ্পো এবং হামা শহরে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে তারা স্লোগান দেন, ‘গাজা, আমরা তোমার সঙ্গে আছি’ এবং ‘ফিলিস্তিন, আমরা তোমার সৈনিক।’

তিউনিসিয়ায় রাজধানীর থিয়েটার ভবনের সামনে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, ‘গাজা, তুমি আমাদের অহংকার’ এবং ‘তিউনিসিয়ার মাটিতে কোন ইসরায়েলি স্বার্থ থাকবে না।’ তাদের হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা ছিল।

গাজার চুক্তি ঘোষণার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার এক নতুন আশা জেগেছে। বিশ্বের নানা প্রান্তে এই খবরে মানুষ উল্লাস প্রকাশ করছে।

আমাদের ফলো করুন