যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে নতুন এক দাবানল আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। শহরের উত্তরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই আগুন দ্রুততার সঙ্গে বিস্তৃত হচ্ছে। রেড-ফ্ল্যাগ সতর্কতা জারি করে ইতিমধ্যে অর্ধলক্ষাধিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাবানলটি বুধবার ২২ জানুয়ারি শুরু হয়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এটি ৩৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা গ্রাস করেছে। এদিকে প্রবল বাতাস এবং শুকনো ঝোপঝাড়ের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ৫০ মাইল উত্তরে হিউজ ফায়ার নামে পরিচিত এই দাবানল অঞ্চলটির দমকল কর্মীদের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করেছে। ইতিমধ্যে শহরজুড়ে চলমান দুটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার পর নতুন এই দাবানল মোকাবিলায় তারা নেমেছে।
হিউজ ফায়ার এত দ্রুততার সঙ্গে ছড়িয়েছে যে এটি সাম্প্রতিক ভয়াবহ ইটন ফায়ারের অর্ধেক আকার ধারণ করেছে। এর আগে ইটন ফায়ার নামে পরিচিত দাবানল জানুয়ারির শুরুতে লস অ্যাঞ্জেলেসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছিল।
রেড-ফ্ল্যাগ সতর্কতা জারির পর কাস্টেইক লেক এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বেশিরভাগ এলাকাই এই মুহূর্তে চরম অগ্নি-ঝুঁকিতে রয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফ রবার্ট লুনা জানান, প্রায় ৩১ হাজার মানুষকে ইতিমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরও ২৩ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
অ্যাঞ্জেলেস ন্যাশনাল ফরেস্ট কর্তৃপক্ষ তাদের ৭ লাখ একর বন দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়া বন ও অগ্নি সুরক্ষা বিভাগ (ক্যাল ফায়ার) জানিয়েছে, ১ হাজার ১০০ দমকল কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
এদিকে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় গত ৯ মাসে উল্লেখযোগ্য কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। তবে, শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এটি হলে দমকল কর্মীরা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।
এই ভয়াবহ দাবানল এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির মুখে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দারা চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। রেড-ফ্ল্যাগ সতর্কতার মধ্যে দমকল বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স







