ভারত ও চীনের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদে বাঁধ নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। অরুণাচল প্রদেশে সিয়াং নদীর ওপর ভারতের প্রস্তাবিত বাঁধ প্রকল্প নিয়ে স্থানীয়দের তীব্র বিরোধ এবং চীনের পরিকল্পিত মেদোগ কাউন্টি বাঁধ নিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল আকার ধারণ করছে। এই সংঘাত কেবল ভূরাজনৈতিক নয়, বরং এটি জলবায়ু, পরিবেশ এবং লাখ লাখ মানুষের জীবনযাত্রায় গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারতের পরিকল্পনা ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
ভারত সরকার অরুণাচল প্রদেশে সিয়াং নদীর ওপর একটি বিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এতে ১১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি ভারতের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হবে। তবে এতে অন্তত ২০টি গ্রাম সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাবে এবং আরও বেশ কিছু গ্রাম হুমকির মুখে পড়বে। স্থানীয়রা এই প্রকল্পকে তাদের বাস্তুতন্ত্র এবং জীবনের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে।
চীনের বাঁধ প্রকল্প
অন্যদিকে চীন, তিব্বতের মেদোগ কাউন্টিতে ইয়ারলুং জাংবো নদীর ওপর বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। এটি ভারতের সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত। বাঁধটি নির্মাণের মাধ্যমে চীন প্রায় ৩০০ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। তবে এর ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে, যা ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশেও প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
ব্রহ্মপুত্র নদ বাংলাদেশে ‘জীবনরেখা’ হিসেবে পরিচিত। চীন ও ভারতের বাঁধ নির্মাণ প্রতিযোগিতার ফলে বাংলাদেশের পানিসম্পদ, নদীর পলি জমা, ভূমি ভাঙন এবং কৃষিক্ষেত্রে বড় ক্ষতি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত করতে পারে।
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নদীর ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভারত ও চীনের এই দ্বন্দ্ব ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে। উভয় দেশই এই প্রকল্পগুলোকে কৌশলগত ও সামরিক শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি
হিমালয়ের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় বিশাল বাঁধ নির্মাণের ফলে জলবায়ু ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকি রয়েছে। ভূমিকম্প, বন্যা এবং ভূমিধসের কারণে এই অঞ্চল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এই সংঘাত কেবল ভারত ও চীনেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি বাংলাদেশের মতো নিম্ন নদীর তীরবর্তী দেশগুলোর জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠছে। ব্রহ্মপুত্রের পানিসম্পদ টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই সংকট সমাধানে আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
সূত্র: আল জাজিরা







