জেনিন শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডব: ২০টি ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ধ্বংস

জেনিন শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডব: ২০টি ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ধ্বংস
জেনিন শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডব: ২০টি ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ধ্বংস। ছবি : আনাদোলু

ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানে জেনিন শরণার্থী শিবিরে ২০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। শিবিরটি এখনও অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। আজ রোববার জেনিনের গভর্নর কামাল আবু রুব এ তথ্য জানিয়েছেন।

আবু রুব জানান, গত মঙ্গলবার শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী শিবিরে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে নিহতদের লাশ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। আনাদোলু এজেন্সির সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘শিবিরটি এখনও অবরুদ্ধ। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় ভেতরের প্রকৃত পরিস্থিতি জানা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’

শিবির দখলের জন্য ইসরায়েলি বাহিনী সামরিক ডি-৯ বুলডোজার এবং ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এসব যন্ত্রপাতি দিয়ে তারা সরু রাস্তা প্রশস্ত করছে, আর এই প্রক্রিয়ায় যেকোনো ঘরবাড়ি বা স্থাপনা ধ্বংস করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১০টি যানবাহনও ধ্বংস হয়েছে।

গভর্নর আরও জানান, শিবিরে কত মানুষ এখনো রয়ে গেছে তা নিশ্চিতভাবে জানা যাচ্ছে না। তবে গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের সময় থেকে এ পর্যন্ত শিবির ছেড়ে পালিয়েছে প্রায় ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ পরিবার।

ইসরায়েলি বাহিনীর ছয় দিনব্যাপী এই সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। বিমান হামলা এবং বিশেষ বাহিনীর অভিযানের কারণে শরণার্থী শিবিরের শত শত বাসিন্দাকে স্থানান্তরে বাধ্য করা হয়েছে।

জেনিনের পাশাপাশি গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা এবং বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফিলিস্তিনি সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এসব আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৮৭৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ৬,৭০০ জন আহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও ১৪,৩০০ জনকে।

আমাদের ফলো করুন